চাকরীর ইন্টারভিউকে বিভক্ত করা যায় চার পর্যায়েঃ- প্রসন্ন চিত্তে জয়ের দিকে অগ্রসর হও।
আমি কি আসতে পারি স্যার/ম্যাডাম?
আমি কি বসতে পারি স্যার/ম্যাডাম?
ধন্যবাদ জানিয়ে শব্দ না করে চেয়ারটি টেনে বসার অনুমতি নেবার পর নিজের হাত ও ফাইল কোলে রাখতে হবে।
প্রথম ধাপ- ভূমিকা পর্যায়- প্রথম পর্যায়ে আপনাকে যে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করবে, সেই সুযোগ সদব্যবহার করুন-
আপনার নাম কি?কোথা থেকে আসছেন?
দ্বিতীয় পর্যায়ে আপনার background জানতে চাওয়া হবে।
আপনার সম্পর্কে বলুন।( tell a little about yourself?)
মনে রাখবেন, এই প্রশ্নের উত্তর আপনাকে ইন্টারভিউ মঞ্চে সেট হতে সাহায্য করবে। তাই উত্তর অত্যন্ত শক্তিশালী হতে হবে-নান,কোন জেলার কোথায় বাড়ি,শিক্ষাগত যোগ্যতা- "আমার প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী------", তারপর আপনার ডিগ্রী, ডিপ্লোমা এবং আপনার প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতা উল্লেখ করুন।বর্তমানে প্রাইভেট টিউশন করি এবং হবি বলতে হবে।(চাকরি পাওয়ার পর দুস্থ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিনা পারিশ্রমিকে পড়াব।)
ইন্টারভিউর তৃতীয় ফেজ সবচেয়ে কঠিন, এবং এটি আপনি অন্যান্য প্রার্থীর সাথে আপনার নিজস্বতা নির্ধারিত হবে।
একটি ভালো শিক্ষকের গুণাবলী কি? (What are the qualities of a good teacher?)
ভাল শিক্ষণ শৈলী।(good teaching style.)
A good teacher is a lifelong good student- একজন উত্তম শিক্ষক জীবনভর একজন ভাল ছাত্র। আবার “A good teacher must be a good guide, director and associator.”- একজন উত্তম শিক্ষক অবশ্যই একজন ভাল পথ প্রদর্শক, পরিচালক এবং সহযোগিতাকারী। ইংরেজি প্রবাদ আছে - "A good teacher is he who has a good character and teaches better than other.” -একজন উত্তম শিক্ষক হলেন,তিনি যিনি ভাল নৈতিক চরিত্রের অধিকারী এবং তিনি অন্যদের তুলনায় উত্তম পাঠ পরিচালনা করেন। সুতরাং আদর্শ শিক্ষকের মাঝে বহু মানবীয় গুণাবলির সমাবেশ থাকতে হবে-
১। আধুনিক বিষয় জ্ঞানের অভিজ্ঞতা।
২। আদৰ্শিক চেতনায় সুষমান্ডিত।
৩। মােহনীয় ব্যক্তিত্ব।
৪। মার্জিত, পরিচ্ছন্ন ও পরিমিত আচরণকারী।
৫। যথার্থ নিয়মের অনুশীলনকারী।
৬। আধুনিক শিক্ষণ-শিখন পদ্ধতির প্রয়োগ দক্ষতা।
৭। উপকরণ ব্যবহারের দক্ষতা ।
৮। ন্যায়নীতিবোধ ও বিচক্ষণতা।
৯। সর্বাধুনিক তথ্যজ্ঞতাপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।
১০। শ্ৰেণী নিয়ন্ত্রণ দক্ষতা ও তীক্ষ্ণ বিচক্ষণতা।
১১। কৌতুহলী এবং সৃজনশীল চেতনা।
১২। যথার্থ উপস্থাপন দক্ষতা।
১৩। প্রগতিশীল কর্মে উদ্দীপনা।
১৪। শ্রুতিমধুর উপস্থাপন দক্ষতা।
১৫। মমত্ববোধ ও ভালবাসা।
১৬। দায়িত্বপূর্ণ সহযোগিতা।
১৭। নিরপেক্ষ মূল্যায়ন ক্ষমতা।
5) আপনি কেন স্কুলের চাকরি বেছে নিতে চান?
শিক্ষকতা কোন পেশা নয়। শিক্ষকতা হল একটা Mission। শিক্ষার্থীদের এমন শিক্ষা দিতে হবে যাতে শিক্ষার্থীরাই কোন কোন ক্ষেত্রে শিক্ষককে ছাপিয়ে যাবে। এখানেই এই পেশার স্বাতন্ত্র। শিক্ষকরা এতেই গর্ববোধ করেন। অমর্ত্য সেনের মতন নোবেল জয়ী বিশ্ববন্দিত অর্থনীতিবিদের শিক্ষকের নাম আমরা জানি। কিন্তু সেই শিক্ষক আজও গর্বভরে ছাত্রের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। এখানেই শিক্ষকতার সার্থকতা।শিক্ষকরা হবেন শিক্ষার্থীর কাছে রোল মডেল।ছোট ছোট শিশুদের আগামী দিনের আদর্শ নাগরিক হিসাবে গড়ে তুলতে হবে। সুতরাং শিক্ষকতা পেশার একমাত্র বিকল্প—আরও উন্নত শিক্ষকতা।
এক্ষেত্রে আপনি স্কুল,শিক্ষক সম্পর্কে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি, শিক্ষাগত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য, ভবিষ্যৎ উদ্যোগ,সম্পর্কে আপনার পরিকল্পনা জানাবেন।(student body, faculty, reputation, community involvement, educational goals and objectives, future initiatives)।
৬) আপনি শ্রেণীকক্ষ শৃঙ্খলা কিভাবে বজায় রাখবেন?( How do you handle classroom discipline?)
অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থী সম্বলিত শ্রেণী কক্ষে শিক্ষার্থীদেরকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য প্রয়োজন সুষ্ঠ শ্রেণী ব্যবস্থাপনা। এ ধরণের শ্রেণীকক্ষের ব্যবস্থাপনার জন্য শিক্ষককে নিচের বিষয়গুলোর প্রতি বিশেষভাবে নজর দেওয়া দরকার
১। কম উচ্চতা সম্পন্ন শিক্ষার্থীদেরকে শ্রেণীর সামনের দিকে এবং বেশী উচ্চতা সম্পন্ন শিক্ষার্থীদেরকে শ্রেণীর পিছনের দিকে বসাতে হবে যাতে পিছনে বসা শিক্ষার্থীরাও ঠিকভাবে বোর্ডের কাজসহ শিক্ষকের যাবতীয় কর্মকান্ড প্রত্যক্ষ্য করতে পারে।
২। শ্রেণীকক্ষের আসনগুলো এমনভাবে স্থাপন করতে হবে যাতে দু’পাশ দিয়ে এবং মাঝখান দিয়ে চলাচলের জায়গা থাকে।
৩। গনিত,বিঞ্জান সহ বিভিন্ন ক্লাসে শিক্ষার্থীদের বোর্ডে ডাকতে হবে বিশেষ কিছু কাজ করানোর জন্য।
৪। শিক্ষার্থীর সংখ্যা যদি খুব বেশী হয় তাহলে প্রয়োজনে ৩/৪টি গ্রুপ করে আলাদা আলাদাভাবে কাজের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
৫। পাঠ সংশ্লিষ্ট উপকরণ যদি স্বল্পমূল্যের অথবা বিনামূল্যের হয় তাহলে শিক্ষার্থীকে একাধিক ছােট দলে বিভক্ত করে ঐ সমস্ত উপকরণ দ্বারা সৃজনীমূলক প্রশ্নের আলোকে দলীয় আলোচনা বা দলীয় কাজের ব্যবস্থা করে যথাযথ নির্দেশনা দিয়ে শ্রেণীর সকলকেই কাজে অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে শ্রেণী নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।
৬। বোর্ডে প্রশ্ন লিখে ক্লাশের সকল শিক্ষার্থীকে ব্যক্তিগতভাবে মাথা খাটিয়ে শ্রেণী নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।
৭। পাশাপাশি বসা শিক্ষার্থীর জোড়া করে জোড়ায় আলোচনার সুযোগ দিয়ে শ্রেণী নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
৮। শ্রেণী পাঠে মিথস্ক্রিয়া ও ধারণা দ্বন্দ্বের মাধ্যমে পাঠ উপস্থাপন করে কৌতুহল সৃষ্টি করে পাঠ নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। এছাড়াও -(ক) বিভিন্ন ধরনের শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে পাঠটীকা(Lesson Plan) প্ৰস্তুত করা এবং পাঠ পরিচালনা করা।
(খ) সঠিক সময় ক্লাসে যাওয়া এবং গৃহ কাজ সংশোধন করা।
(গ) প্রত্যেক শিক্ষার্থীর দিকে আলাদা করে নজর রাখা।
(গ) শ্রেণীকক্ষে সকল শিক্ষার্থীকে সক্রিয় হতে উৎসাহী করা।
(ঘ) প্রত্যেক শিক্ষার্থীদের স্ব-শিখনের জন্যে উৎসাহী করা।
৭) আপনি কিভাবে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করবেন?( the way you assess and evaluate students?)
আপনি ফরমেটিভ ও সামেটিভ মূল্যায়ন প্রক্রিয়া লিখিত পরীক্ষা,কুইজ,আলোচনা,ডিবেট সম্পর্কে বলবেন।
৮) সফল শ্রেণী পাঠদানের জন্য করণীয় দিকগুলি কি কি?
শ্রেণী পাঠদানকে সফল, সার্থক ও কার্যকর করার জন্য পাঠদানের বিভিন্ন পদ্ধতি ও কলা-কৌশল অনুসরণ করার পাশাপাশি বিভিন্ন দিকের প্রতি শিক্ষককে অত্যন্ত যত্নবান ও মনোযোগী হতে হবে। যেমন-
১. পাঠদানের বিষয়বস্তু সম্পর্কে শিক্ষককে গভীর জ্ঞানের অধিকারী হওয়া ।
২. পাঠদানের পূর্বে পাঠের বিষয়বস্তু সম্পর্কে শিক্ষককে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রণয়ন করা |
৩। বিষয়বস্তু সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের পূর্বজ্ঞান যাচাই করা।
৪। পাঠ সম্পর্কিত আচরণিক উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা।
৫। যথাযথভাবে শ্রেণী ব্যবস্থাপনা করা।
৬। পাঠদানের জন্য বরাদ্দকৃত সময়ের কার্যকর ব্যবস্থাপনা করা।
৭। পাঠদানে বিষয়বস্তু সংশ্লিষ্ট উপকরণ ব্যবহার করা।
৮। পাঠদানের মাঝে মাঝে শ্রেণী তদারক করা।
৯। পাঠদানের ধারাবাহিকতা ও সামঞ্জস্য বজায় রাখা ।
১০। পাঠদানের বিষয়বস্তুকে ছোট ছোট পর্বে ভাগ করে পাঠদান করা।
১১। পাঠদানের জন্য বরাদ্দকৃত সময়কে পাঠের পর্ব অনুযায়ী বিভাজন করা।
১২। পাঠের বিষয়বস্তুর ওপর প্রশ্ন করা ও মুক্ত আলোচনার জন্য শিক্ষার্থীদেরকে সুযোগ দেওয়া। ১৩। বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদেরকে শ্রেণীতে সক্রিয় ও কর্মতৎপর রাখা।
১৪। শিক্ষককে শ্রেণীর সকল শিক্ষার্থীর প্রতি মনোযোগ দেওয়া |
১৫। পাঠ গ্রহণে শিক্ষার্থীদেরকে উৎসাহিত করা।
১৬। শিক্ষার্থীদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করা।
১৭। পাঠের উদ্দেশ্য যাচাই করা।
১৮। শিক্ষার্থীরা পাঠ গ্রহণে কতটুকু সফল হলো তা মূল্যায়ন করা।
এসব দিকগুলো বিশেষভাবে বিবেচনা করে যে-কোনো স্তরের শ্ৰেণীশিক্ষককে পাঠদান করা প্রয়োজন।
ইন্টারভিউর চূড়ান্ত পর্যায়ে শেষ করুন আত্মবিশ্বাসের সাথে।শেষে ধন্যবাদ জানান।
আমি কি আসতে পারি স্যার/ম্যাডাম?
আমি কি বসতে পারি স্যার/ম্যাডাম?
ধন্যবাদ জানিয়ে শব্দ না করে চেয়ারটি টেনে বসার অনুমতি নেবার পর নিজের হাত ও ফাইল কোলে রাখতে হবে।
প্রথম ধাপ- ভূমিকা পর্যায়- প্রথম পর্যায়ে আপনাকে যে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করবে, সেই সুযোগ সদব্যবহার করুন-
আপনার নাম কি?কোথা থেকে আসছেন?
দ্বিতীয় পর্যায়ে আপনার background জানতে চাওয়া হবে।
আপনার সম্পর্কে বলুন।( tell a little about yourself?)
মনে রাখবেন, এই প্রশ্নের উত্তর আপনাকে ইন্টারভিউ মঞ্চে সেট হতে সাহায্য করবে। তাই উত্তর অত্যন্ত শক্তিশালী হতে হবে-নান,কোন জেলার কোথায় বাড়ি,শিক্ষাগত যোগ্যতা- "আমার প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী------", তারপর আপনার ডিগ্রী, ডিপ্লোমা এবং আপনার প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতা উল্লেখ করুন।বর্তমানে প্রাইভেট টিউশন করি এবং হবি বলতে হবে।(চাকরি পাওয়ার পর দুস্থ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিনা পারিশ্রমিকে পড়াব।)
ইন্টারভিউর তৃতীয় ফেজ সবচেয়ে কঠিন, এবং এটি আপনি অন্যান্য প্রার্থীর সাথে আপনার নিজস্বতা নির্ধারিত হবে।
একটি ভালো শিক্ষকের গুণাবলী কি? (What are the qualities of a good teacher?)
ভাল শিক্ষণ শৈলী।(good teaching style.)
A good teacher is a lifelong good student- একজন উত্তম শিক্ষক জীবনভর একজন ভাল ছাত্র। আবার “A good teacher must be a good guide, director and associator.”- একজন উত্তম শিক্ষক অবশ্যই একজন ভাল পথ প্রদর্শক, পরিচালক এবং সহযোগিতাকারী। ইংরেজি প্রবাদ আছে - "A good teacher is he who has a good character and teaches better than other.” -একজন উত্তম শিক্ষক হলেন,তিনি যিনি ভাল নৈতিক চরিত্রের অধিকারী এবং তিনি অন্যদের তুলনায় উত্তম পাঠ পরিচালনা করেন। সুতরাং আদর্শ শিক্ষকের মাঝে বহু মানবীয় গুণাবলির সমাবেশ থাকতে হবে-
১। আধুনিক বিষয় জ্ঞানের অভিজ্ঞতা।
২। আদৰ্শিক চেতনায় সুষমান্ডিত।
৩। মােহনীয় ব্যক্তিত্ব।
৪। মার্জিত, পরিচ্ছন্ন ও পরিমিত আচরণকারী।
৫। যথার্থ নিয়মের অনুশীলনকারী।
৬। আধুনিক শিক্ষণ-শিখন পদ্ধতির প্রয়োগ দক্ষতা।
৭। উপকরণ ব্যবহারের দক্ষতা ।
৮। ন্যায়নীতিবোধ ও বিচক্ষণতা।
৯। সর্বাধুনিক তথ্যজ্ঞতাপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।
১০। শ্ৰেণী নিয়ন্ত্রণ দক্ষতা ও তীক্ষ্ণ বিচক্ষণতা।
১১। কৌতুহলী এবং সৃজনশীল চেতনা।
১২। যথার্থ উপস্থাপন দক্ষতা।
১৩। প্রগতিশীল কর্মে উদ্দীপনা।
১৪। শ্রুতিমধুর উপস্থাপন দক্ষতা।
১৫। মমত্ববোধ ও ভালবাসা।
১৬। দায়িত্বপূর্ণ সহযোগিতা।
১৭। নিরপেক্ষ মূল্যায়ন ক্ষমতা।
5) আপনি কেন স্কুলের চাকরি বেছে নিতে চান?
শিক্ষকতা কোন পেশা নয়। শিক্ষকতা হল একটা Mission। শিক্ষার্থীদের এমন শিক্ষা দিতে হবে যাতে শিক্ষার্থীরাই কোন কোন ক্ষেত্রে শিক্ষককে ছাপিয়ে যাবে। এখানেই এই পেশার স্বাতন্ত্র। শিক্ষকরা এতেই গর্ববোধ করেন। অমর্ত্য সেনের মতন নোবেল জয়ী বিশ্ববন্দিত অর্থনীতিবিদের শিক্ষকের নাম আমরা জানি। কিন্তু সেই শিক্ষক আজও গর্বভরে ছাত্রের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। এখানেই শিক্ষকতার সার্থকতা।শিক্ষকরা হবেন শিক্ষার্থীর কাছে রোল মডেল।ছোট ছোট শিশুদের আগামী দিনের আদর্শ নাগরিক হিসাবে গড়ে তুলতে হবে। সুতরাং শিক্ষকতা পেশার একমাত্র বিকল্প—আরও উন্নত শিক্ষকতা।
এক্ষেত্রে আপনি স্কুল,শিক্ষক সম্পর্কে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি, শিক্ষাগত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য, ভবিষ্যৎ উদ্যোগ,সম্পর্কে আপনার পরিকল্পনা জানাবেন।(student body, faculty, reputation, community involvement, educational goals and objectives, future initiatives)।
৬) আপনি শ্রেণীকক্ষ শৃঙ্খলা কিভাবে বজায় রাখবেন?( How do you handle classroom discipline?)
অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থী সম্বলিত শ্রেণী কক্ষে শিক্ষার্থীদেরকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য প্রয়োজন সুষ্ঠ শ্রেণী ব্যবস্থাপনা। এ ধরণের শ্রেণীকক্ষের ব্যবস্থাপনার জন্য শিক্ষককে নিচের বিষয়গুলোর প্রতি বিশেষভাবে নজর দেওয়া দরকার
১। কম উচ্চতা সম্পন্ন শিক্ষার্থীদেরকে শ্রেণীর সামনের দিকে এবং বেশী উচ্চতা সম্পন্ন শিক্ষার্থীদেরকে শ্রেণীর পিছনের দিকে বসাতে হবে যাতে পিছনে বসা শিক্ষার্থীরাও ঠিকভাবে বোর্ডের কাজসহ শিক্ষকের যাবতীয় কর্মকান্ড প্রত্যক্ষ্য করতে পারে।
২। শ্রেণীকক্ষের আসনগুলো এমনভাবে স্থাপন করতে হবে যাতে দু’পাশ দিয়ে এবং মাঝখান দিয়ে চলাচলের জায়গা থাকে।
৩। গনিত,বিঞ্জান সহ বিভিন্ন ক্লাসে শিক্ষার্থীদের বোর্ডে ডাকতে হবে বিশেষ কিছু কাজ করানোর জন্য।
৪। শিক্ষার্থীর সংখ্যা যদি খুব বেশী হয় তাহলে প্রয়োজনে ৩/৪টি গ্রুপ করে আলাদা আলাদাভাবে কাজের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
৫। পাঠ সংশ্লিষ্ট উপকরণ যদি স্বল্পমূল্যের অথবা বিনামূল্যের হয় তাহলে শিক্ষার্থীকে একাধিক ছােট দলে বিভক্ত করে ঐ সমস্ত উপকরণ দ্বারা সৃজনীমূলক প্রশ্নের আলোকে দলীয় আলোচনা বা দলীয় কাজের ব্যবস্থা করে যথাযথ নির্দেশনা দিয়ে শ্রেণীর সকলকেই কাজে অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে শ্রেণী নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।
৬। বোর্ডে প্রশ্ন লিখে ক্লাশের সকল শিক্ষার্থীকে ব্যক্তিগতভাবে মাথা খাটিয়ে শ্রেণী নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।
৭। পাশাপাশি বসা শিক্ষার্থীর জোড়া করে জোড়ায় আলোচনার সুযোগ দিয়ে শ্রেণী নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
৮। শ্রেণী পাঠে মিথস্ক্রিয়া ও ধারণা দ্বন্দ্বের মাধ্যমে পাঠ উপস্থাপন করে কৌতুহল সৃষ্টি করে পাঠ নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। এছাড়াও -(ক) বিভিন্ন ধরনের শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে পাঠটীকা(Lesson Plan) প্ৰস্তুত করা এবং পাঠ পরিচালনা করা।
(খ) সঠিক সময় ক্লাসে যাওয়া এবং গৃহ কাজ সংশোধন করা।
(গ) প্রত্যেক শিক্ষার্থীর দিকে আলাদা করে নজর রাখা।
(গ) শ্রেণীকক্ষে সকল শিক্ষার্থীকে সক্রিয় হতে উৎসাহী করা।
(ঘ) প্রত্যেক শিক্ষার্থীদের স্ব-শিখনের জন্যে উৎসাহী করা।
৭) আপনি কিভাবে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করবেন?( the way you assess and evaluate students?)
আপনি ফরমেটিভ ও সামেটিভ মূল্যায়ন প্রক্রিয়া লিখিত পরীক্ষা,কুইজ,আলোচনা,ডিবেট সম্পর্কে বলবেন।
৮) সফল শ্রেণী পাঠদানের জন্য করণীয় দিকগুলি কি কি?
শ্রেণী পাঠদানকে সফল, সার্থক ও কার্যকর করার জন্য পাঠদানের বিভিন্ন পদ্ধতি ও কলা-কৌশল অনুসরণ করার পাশাপাশি বিভিন্ন দিকের প্রতি শিক্ষককে অত্যন্ত যত্নবান ও মনোযোগী হতে হবে। যেমন-
১. পাঠদানের বিষয়বস্তু সম্পর্কে শিক্ষককে গভীর জ্ঞানের অধিকারী হওয়া ।
২. পাঠদানের পূর্বে পাঠের বিষয়বস্তু সম্পর্কে শিক্ষককে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রণয়ন করা |
৩। বিষয়বস্তু সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের পূর্বজ্ঞান যাচাই করা।
৪। পাঠ সম্পর্কিত আচরণিক উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা।
৫। যথাযথভাবে শ্রেণী ব্যবস্থাপনা করা।
৬। পাঠদানের জন্য বরাদ্দকৃত সময়ের কার্যকর ব্যবস্থাপনা করা।
৭। পাঠদানে বিষয়বস্তু সংশ্লিষ্ট উপকরণ ব্যবহার করা।
৮। পাঠদানের মাঝে মাঝে শ্রেণী তদারক করা।
৯। পাঠদানের ধারাবাহিকতা ও সামঞ্জস্য বজায় রাখা ।
১০। পাঠদানের বিষয়বস্তুকে ছোট ছোট পর্বে ভাগ করে পাঠদান করা।
১১। পাঠদানের জন্য বরাদ্দকৃত সময়কে পাঠের পর্ব অনুযায়ী বিভাজন করা।
১২। পাঠের বিষয়বস্তুর ওপর প্রশ্ন করা ও মুক্ত আলোচনার জন্য শিক্ষার্থীদেরকে সুযোগ দেওয়া। ১৩। বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদেরকে শ্রেণীতে সক্রিয় ও কর্মতৎপর রাখা।
১৪। শিক্ষককে শ্রেণীর সকল শিক্ষার্থীর প্রতি মনোযোগ দেওয়া |
১৫। পাঠ গ্রহণে শিক্ষার্থীদেরকে উৎসাহিত করা।
১৬। শিক্ষার্থীদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করা।
১৭। পাঠের উদ্দেশ্য যাচাই করা।
১৮। শিক্ষার্থীরা পাঠ গ্রহণে কতটুকু সফল হলো তা মূল্যায়ন করা।
এসব দিকগুলো বিশেষভাবে বিবেচনা করে যে-কোনো স্তরের শ্ৰেণীশিক্ষককে পাঠদান করা প্রয়োজন।
ইন্টারভিউর চূড়ান্ত পর্যায়ে শেষ করুন আত্মবিশ্বাসের সাথে।শেষে ধন্যবাদ জানান।
Comments
Post a Comment